ইরানের দুই স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ছাড় দিচ্ছে না তেহরানও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন কেবল স্থলসীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং আকাশ, সমুদ্র এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দ শহরের দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফারস নিউজ এজেন্সি ধ্বংসপ্রাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ছবি প্রকাশ করেছে। এর আগে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর আগে কুয়েতে ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের দাবি। সমুদ্রপথেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা উপসাগরে একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের খোর আল-জুবাইর বন্দরে একটি তেল ট্যাংকারে নৌযান দিয়ে আঘাত করায় তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে শ্রীলঙ্কার উপকূলে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দিনা’কে সাবমেরিন থেকে হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজটিতে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তীব্র অনুশোচনা’ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরাঘচি। সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে বাহরাইন ও কাতারেও। বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং কাতারের রাজধানী দোহায় আজ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে, ষষ্ঠ দিনের মতো তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *