এমবাপের ৪ গোল, রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে রিয়ালের ঘাম ঝরানো জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের তিন ম্যাচে জয়হীন রিয়াল মাদ্রিদবির শেষ পর্যন্ত ভরসা হয়ে উঠলেন কিলিয়ান এমবাপে। স্বাগতিক অলিম্পিয়াকোসের মাঠে চার গোল করে ম্যাচটিকে নিজের মতো করে সাজালেন ফরাসি ফরোয়ার্ড, তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চ ধরে রেখে কষ্টসাধ্য জয় পেল রিয়াল। বুধবার কারাইসকাকিস স্টেডিয়ামে ৪-৩ গোলের এই ম্যাচটি ছিল পুরোপুরি দোলাচলের, যেখানে প্রতিপক্ষের হার না মানা লড়াই খেলাটিকে করেছে আরও উত্তেজনাপূর্ণ।

অ্যাওয়ে মাঠে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে আগে কখনও জিততে পারেনি রিয়াল। সেটা ভাঙতেই যেন শুরুতে একটু ঘাবড়ে যায় তারা। অষ্টম মিনিটে চিকিনিয়োর নিচু শটে গোল হজমের পর রক্ষণের ভুলে আরও একবার বিপদে পড়তে যাচ্ছিল দলটি। তবে লুনিনের অসাধারণ সেভে অল্পের জন্য রক্ষা পায় রিয়াল। এরপর পাল্টা আক্রমণে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে অতিথিরা। ২২তম মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের থ্রু পাস ধরে সমতা ফেরান এমবাপে।

সমতার পর যেন নতুন উদ্যমে খেলতে শুরু করে রিয়াল। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এমবাপে। আর্দা গুলারের ক্রসে চমৎকার হেড এবং এরপর কামাভিঙ্গার পাস ধরে কোনাকুনি শট, দুই সুযোগেই ছিলেন নিখুঁত। এই হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করতে এমবাপের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক। সবচেয়ে দ্রুততম রেকর্ডটি রয়েছে মোহামেদ সালাহর দখলে, যিনি ২০২২ সালে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

বিরতির আগে ভিনিসিউসের আরেকটি প্রচেষ্টা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একটি সুযোগ সৃষ্টি করলেও বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর লড়াইয়ে ফেরে অলিম্পিয়াকোস। ৫২তম মিনিটে মেহদি তারেমির হেডে ব্যবধান কমে আসে। মাঠের পরিবেশও তখন গরম হয়ে ওঠে।

চাপের মুহূর্তে আবার সামনে আসেন এমবাপে। ৫৯তম মিনিটে ভিনিসিউসের বাড়িয়ে দেওয়া থ্রু বল ধরে বক্সে ঢ়ুকে সহজ শটে নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। এই গোলেই রিয়াল ফের দুই গোলে এগিয়ে যায়। চলমান আসরে পাঁচ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৯, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে। ক্লাবের জার্সিতে এই মৌসুমে তার মোট গোল এখন ২২টি।

অলিম্পিয়াকোস অবশ্য লড়াই ছাড়েনি। ৮১তম মিনিটে এল কাবির হেডে আবারও ব্যবধান কমে এক গোলে দাঁড়ায়। শেষ সময়ে স্বাগতিকরা কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও রিয়ালের রক্ষণ আর কোনো ভুল করেনি। ফলে প্রথমবার অলিম্পিয়াকোসের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরে রেয়াল মাদ্রিদ। পাঁচ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট, যা দলটিকে প্রাথমিক পর্বের তালিকায় পঞ্চম স্থানে নিয়ে গেছে।

অলিম্পিয়াকোস সমান ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে আছে ৩৩ নম্বরে। তবে লড়াইয়ের মানসিকতা দিয়ে তারা ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল। রিয়াল মাদ্রিদও বুঝে গেছে, এত গোল করলেও অ্যাওয়ে চাপে টিকে থাকা আজও কঠিন পরীক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *