মোঃ বাবুল হোসাইন ,বাউফল(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নার্সদের গাফিলতির কারণে এক নবজাতক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত (৫ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে।ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির শিকদারের স্ত্রী মোসা.ইতি(২২)অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত বাউফল সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু থাকার কথা থাকলেও রাতের ওই সময় হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা ইমারজেন্সি রুমে কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি পাননি। হাসপাতালের ওপরের তলায় ওঠার গেটেও তালা ঝুলতে দেখা যায়।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করার পর দারোয়ান এসে গেট খুলে দিলে স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ঢোকার পর সেখানে কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। স্বজনদের ভাষ্য, সাব্বির শিকদার নিজেই ট্রলিতে করে তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে একটি বেডে শুইয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত নার্স শিপলা রানী ও শিরিন সেখানে আসেন। স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতির কথা কর্তব্যরত চিকিৎসককে না জানিয়ে ওই দুই নার্স রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁদের ভাষ্য, নার্সরা বলেন—‘এত ডাকাডাকি করেন কেন? সারাক্ষণ কি আমাদেরই ডিউটি করতে হবে? যা হওয়ার হবে, সকালে দেখা যাবে।’ অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নার্সরা নিজেরা কিছু ওষুধ লিখে দেন। সারা রাত প্রসূতি প্রচণ্ড প্রসবযন্ত্রণায় ভুগলেও কোনো চিকিৎসক না আসায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। পরে সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক এসে ডেলিভারি করান। তবে ততক্ষণে নবজাতক কন্যাশিশুটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স শিরিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে ফোন দিতে পারেননি, কারণ তাঁর ফোনে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স ছিল না। চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় নিজে ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব ওষুধ সাধারণত চিকিৎসকরাও দিয়ে থাকেন।
অপর অভিযুক্ত নার্স শিপলা রানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ওই রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার জুথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সকালে এসে বিষয়টি জানতে পারি।’
হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ মিনারা বেগম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আব্দুর রব বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কোনো নার্সের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে