ফরিদপুর প্রতিনিধি : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ, সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয় ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তাহলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে। নারী ও শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা ব্রিজ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের আশ্বাস দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক। ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে জেলা শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এদের অনেকেই বলেন, ফরিদপুরের এই জনসমাগমই প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়। দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ নতুন গতি এনে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।