ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতা: টোলমুক্ত হরমুজ, প্রত্যাহার হচ্ছে মার্কিন নৌ-অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বহু মাসের সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে শান্তির পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করা হবে এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন নৌ-অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।

রোববার (১৪ জুন) পৃথক ঘোষণায় এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য সম্পূর্ণ টোলমুক্ত রাখার পাশাপাশি মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ অনুমোদনের কথাও জানান।

এর কয়েক মিনিট আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে।

শাহবাজ শরিফ আরও জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কাজ করছে হোয়াইট হাউস। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স এ চুক্তিকে ‘শান্তির নতুন দিগন্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই ধাপে ধাপে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার শুরু হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট এবং পরবর্তী মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চুক্তির ঘোষণার দিনই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ঘটনার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, শান্তির এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি কোনো পক্ষেরই কাম্য নয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরান, লেবানন, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।