স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল সৌদি আরব। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপপর্বের সমীকরণ আরও জটিল ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ দেখায় উরুগুয়ে। বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও সৌদি আরবের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দলটি। ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। পিছিয়ে পড়েও ভেঙে না পড়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে সৌদি আরব। দ্রুতগতির পাসিং, সংগঠিত আক্রমণ এবং কার্যকর কাউন্টার অ্যাটাকে উরুগুয়ের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করেন মিডফিল্ডার সালেম আল-দাওসারি। তার শটে জালে বল জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন সৌদি সমর্থকরা।
গোল শোধের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সৌদি আরব। ম্যাচের শেষভাগে কয়েকবার উরুগুয়ের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ালেও জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে পূর্ণ তিন পয়েন্টের আশায় মরিয়া উরুগুয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাঙতে পারেনি প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ।
ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। এই ফলাফলে গ্রুপের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। কাগজে-কলমে ফেবারিট উরুগুয়ের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব দেখিয়ে দিল, বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা তাদের রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দারুণ টিমওয়ার্ক এবং দ্রুতগতির আক্রমণই তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি। বিপরীতে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারা উরুগুয়ের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকবে বড় এক আক্ষেপের গল্প।