জয়পুরে বিক্ষোভ মঞ্চে অভিজিৎ দিপকের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের জয়পুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে অভিজিৎ দিপকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রকাশ্যে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রোহিত শর্মা, রাকেশ গুর্জর, অজয় শর্মা, কুলদীপ সিং এবং নিকেত। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তও শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ বিভাগের ডিসিপি রাজর্ষি রাজ বর্মা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মূলত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, বেকারত্ব এবং তরুণদের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচিতে শত শত মানুষ অংশ নেন। দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানর পদত্যাগ দাবি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমর্থকদের কাঁধে চড়ে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করছিলেন অভিজিৎ দিপকে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে থাকা কয়েকজন যুবক তার কাছে গিয়ে তাকে একাধিকবার চড় মারেন। ঘটনার পরপরই সিজেপি সমর্থক ও হামলাকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন রাকেশ গুর্জরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী দাবি করে অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে জনমত বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার নিন্দা জানান অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, শারীরিক হামলা ভীতি ও অসহিষ্ণুতার প্রকাশ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে এবং হামলাকারীদের একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে দল আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করবে।

হামলার পরও বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২০ জুন দিল্লিমুখী পদযাত্রাসহ আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে আরও কয়েকটি ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে। স্লোগানকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ করেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এসব ঘটনার বিষয়ে পৃথকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হবে।