আসল আসামির বদলে আত্মসমর্পণ, আদালতে জালিয়াতির ঘটনায় নারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার একটি আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক নারীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতকে বিভ্রান্ত করা, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আটক মনোয়ারা বেগম (৫০), মূল আসামি নাসরীন সিকদার এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. ইদ্রিস আলী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে একই দিন দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৪-এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে ঘটনাটি ঘটে।

আদালত সূত্র জানায়, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের হওয়া ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় মূল আসামি নাসরীন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিচয় ও মামলার বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।

এতে বিচারকের সন্দেহ হলে আদালতের নথি ও পরিচয়পত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, মনোয়ারা প্রকৃত আসামি নন। ঘটনার পরপরই মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন আদালত কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।

আটক মনোয়ারা বেগম আদালতে জানান, তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। জজ কোর্টের এক আইনজীবী আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। তিনি ডেকেছিলেন, তাই এসেছি। এটা যে অপরাধ, তা আমি বুঝিনি।’

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারাকে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেন ভুয়া ওকালতনামা তৈরি করে নিজ হাতে নাম লিখে আদালতে জমা দেন, যার কোনো আইনগত বৈধতা ছিল না।

মূল মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে ফ্ল্যাট কেনার জন্য নাসরীন সিকদার ২৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে সেই অর্থের বিপরীতে দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত মনে করেন, প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টা দণ্ডবিধির ২০৫, ৪১৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।