নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার নিজ বাসা থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হেলালুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে শুনানিকালে আসামিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আইনজীবীর সঙ্গে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে আসেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানোর পর সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক একটি ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, পরে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রায় দুই মাস একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ বছর আটক থাকার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার ছেলে অপূর্ব বালী সেখানে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বাবাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিন ডিবির দুটি ডাবল কেবিন গাড়িতে করে ফজলুর রহমান ও তার সহযোগীরা ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে সুখরঞ্জন বালীকে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয় এবং পরে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, এ ঘটনায় ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।