‘জামায়াতে যোগ দেননি’— সাদিক কায়েমকে নিয়ে ভাইরাল দাবির ব্যাখ্যা দিল জামায়াতে ইসলামী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন’— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে দলটি। একটি ছবি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জনকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, সাদিক কায়েমের দলটিতে যোগদানের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, “সাদিক কায়েমের জামায়াতে যোগদানের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ছাত্রশিবিরের একটি অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তোলা একটি ছবিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।”

সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাদিক কায়েমের একটি ছবি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন।

তবে এসব দাবির কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছে জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় সূত্র বলছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি একটি সাংগঠনিক অনুষ্ঠানের। সেটিকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় শেষে সাদিক কায়েম ছাত্ররাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। এটিকে নতুন কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়।

এর আগে গত ১২ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন সাদিক কায়েম। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিদায়ী পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছিলেন, “দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।”

তিনি আরও লেখেন, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর, শিক্ষণীয় ও সৃষ্টিশীল সময়গুলো সংগঠনের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

সাদিক কায়েমের ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে পরবর্তীতে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে তার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সেটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। দলটির দাবি, বাস্তবতার সঙ্গে মিল না থাকা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।