আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্য স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের

রাজধানীর বাজারে নতুন করে বাড়েনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য। ফলে ক্রেতাদের ওপর নতুন চাপ না পড়লেও উচ্চমূল্যের কারণে স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের। শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিরপুর-১০, মিরপুর-১৩, মিরপুর-২ ও মোহাম্মদপুর এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবজির বাজারে বেগুন আকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা ও জালি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। শাকের বাজারে লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, কচুশাক ও কলমিশাক ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫ টাকা। মিরপুর-১৩ নম্বরের ক্রেতা আকিদুল হক বলেন, শাকের মতো দু-একটি পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ সবজি আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্য থাকায় ক্রেতারা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। অন্যদিকে মিরপুর-২ নম্বর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আছিয়া খাতুন বলেন, বাজারে পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। একটি ব্যাচেলর মেসের জন্য বেশি পরিমাণে বাজার করতে হয় বলে কম দামের আশায় বিভিন্ন দোকানে দরদাম করছেন। চালের বাজারে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ও মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং পাইজাম চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে দেশি চিকন মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই ধরনের ডাল সুপারশপে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, লেয়ার ও সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। মাছের বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই ও কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় সিলভার কার্প ২০০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বোয়াল ৭০০ টাকা, হাইব্রিড ট্যাংরা ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৫০০ টাকা এবং কাচকি মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর-১০ নম্বরের খুচরা ব্যবসায়ী জুলহাস বলেন, পাইকারি বাজারে দু-একটি পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ পণ্য আগের দামেই রয়েছে। নতুন করে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। ফলে খুচরা বাজারেও দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ছুটির দিনে সকালে এই বাজারে কেনাকাটা করতে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শাহিন মিয়া। তিনি বলেন, বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই বেশি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য, আয় বাড়েনি কিন্তু সংসার চালানোর খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও বর্তমান উচ্চমূল্যে স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে জানান শাহিন। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত।