৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, জারি জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন সেবা স্থগিত এবং উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। পরপর দুই দফা এই কম্পনে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানীর কাছাকাছি মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রো ও রেল চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো বলেছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনেক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। সরকার দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। তিনি নাগরিকদের বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং একে অপরের খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে ইউএসজিএসের প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যাপক ভূমিধস এবং মাটি তরলীকরণের মতো বিপজ্জনক ভূ-প্রাকৃতিক ঝুঁকির সতর্কবার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি।

উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করেছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক অঞ্চলের প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।