জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বেশি হারে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ৫ হাজারের বেশি উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির শিকার হয়েছে। অন্যদিকে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এ হার প্রায় ৩৩ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনামূলক বেশি গতি। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার পরিবেশ ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন উইনস বলেন, এতদিন সাধারণভাবে মনে করা হতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের প্রাণীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু গবেষণার ফলাফল বলছে, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির তীব্রতা অনেক বেশি। এই দ্রুত উষ্ণায়ন অন্যান্য পরিবেশগত প্রভাবকে ছাড়িয়ে গিয়ে প্রজাতিগুলোকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গোপাল মুরালি বলেন, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন ধারণা বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের জীববৈচিত্র্যগত প্রভাব বলতে দূরবর্তী কোনো উষ্ণমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট বা চিরহরিৎ বনাঞ্চলের চিত্রই বেশি পরিচিত। গবেষণার ফলাফল সেই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে দেখাচ্ছে। গবেষকদের মতে, প্রজাতি বিলুপ্তির এই প্রবণতা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং এটি ক্রমেই বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হচ্ছে।
গবেষণাটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নে অঞ্চলভিত্তিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে।