নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৫ জুন) দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্টে তা ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে এবং সেপ্টেম্বর মাসে আরও কমে ২৪ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছায়।
অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বৈদেশিক দায় পরিশোধে কৌশলগত ব্যবস্থাপনা, বাজার থেকে ডলার ক্রয় এবং রিজার্ভ সংরক্ষণে নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্স দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিলে প্রবাসী আয় প্রবাহে ইতিবাচক গতি ফিরে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় ধীরে ধীরে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়।
সবশেষ, প্রায় ৫৬ মাস পর দেশের গ্রস রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য বা নেট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা বজায় থাকলে বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।