শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী ১৭ বছরের অপচয়-দুর্নীতি বর্তমান সরকার বন্ধ করেছে: মঈন খান জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নরসিংদী সদর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন বাউফলে ১২৪ পিচ ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

খাবারের আশায় দরজায় বসে থাকেন শফিকুল, অসহায় দুই ভাই-বোনের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

ইমরোজ শাহেদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

একসময় রিকশা চালিয়ে পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন। বাবার মৃত্যুর পর কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সংসারের ভার। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা। এক যুগ ধরে ঘরবন্দি জীবন কাটছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শফিকুল খলিফার।

এখন নিজের খাবার জোগাড় করার সামর্থ্যও নেই ৪৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তির। কেউ খাবার নিয়ে এলে খাওয়া জোটে, না এলে অনেক সময় না খেয়েই কাটে দিন-রাত। ঘরের দরজার পাশে বসে মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকা যেন তার নিত্যদিনের বাস্তবতা।

মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্ল্যা গ্রামের মৃত রশিদ খলিফার ছেলে শফিকুল। তার সঙ্গে থাকেন ৪০ বছর বয়সী ছোট বোন ফাতেমা আক্তার, যিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

বাবার পর সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শফিকুল

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান শফিকুলের বাবা রশিদ খলিফা। জীবিত অবস্থায় মুদি দোকান চালিয়ে চার সন্তানকে নিয়ে মোটামুটি স্বচ্ছলভাবেই সংসার চালাতেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শফিকুল। রিকশা চালিয়ে উপার্জন করে সংসার চালাতেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেন চলাফেরা ও কাজ করার সক্ষমতা।

গত ১২ বছর ধরে ঘরেই পড়ে আছেন তিনি।

জরাজীর্ণ ঘরেই দুই ভাই-বোনের জীবন

বাবার রেখে যাওয়া মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বসতঘর। দুটি চালার জরাজীর্ণ ঘর ছাড়া সেখানে নেই প্রয়োজনীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা। নেই বিদ্যুৎ, রান্নাঘর কিংবা স্যানিটারি শৌচাগার।

বাড়িটির আশপাশেও তেমন বসতি নেই। বর্ষা এলে চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নিয়মিত খাবার বা সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ঘরের দরজায় বসে কারও সহযোগিতার অপেক্ষা করা ছাড়া শফিকুলের সামনে আর কোনো পথ থাকে না।

স্থানীয়রা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করেন। তবে চিকিৎসা, বসবাসের উপযোগী ঘর, রান্নাঘর ও শৌচাগারসহ স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

‘কেউ খাবার দিলে খেতে পারি, না দিলে পারি না’

স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল মিয়া বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে অসুস্থ শফিকুল। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনিই পরিবারের হাল ধরেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন এলাকার মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করায় কোনো রকমে তাদের দিন কাটছে।

তিনি বলেন, শফিকুল ও তার বোনের জন্য ঘর, রান্নাঘর ও টয়লেট নির্মাণের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। সমাজের বিত্তবানদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ডি. কে. রুবেল বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা পরিবেশে দুই ভাই-বোনের বসবাস। তাদের বাড়িতে না এলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা কঠিন। কেউ খাবার দিলে তারা খেতে পারেন, না হলে খাবার জোটে না।

তিনি জানান, স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী মহসীন জানান, শফিকুলের বাবা তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। একসময় তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ছিল। বাবার মৃত্যুর পর রিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব নেন শফিকুল। পরে অসুস্থ হয়ে প্রায় ১২ বছর ধরে শয্যাশায়ী।

চিকিৎসার সামর্থ্য নেই শফিকুলের

শফিকুলের বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তার ভাইই সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাই অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তাদের জীবন কঠিন হয়ে গেছে।

তার ভাষায়, কেউ খাবার দিলে তারা খেতে পারেন। না দিলে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়। ভাইয়ের চিকিৎসা করানো এবং নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সমাজের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অসুস্থ শফিকুল বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি ঘরে পড়ে আছেন। চলাফেরা করতে পারেন না। অর্থের অভাবে নিজের অসুস্থতার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তিনি বলেন, সুস্থ থাকার সময় কাজ করে সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্যও তার নেই।

ভাতার আওতায় দুই ভাই-বোন

জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাজী জোৎস্না বলেন, শফিকুল ও তার বোন অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, শফিকুল ও তার বোনের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর দুজনকেই সরকারি ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। আগামী মাস থেকে তারা ভাতার টাকা পাবেন।

তাদের জন্য আরও কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়েও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪৫ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102