আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ, আগুন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী পরিকল্পিতভাবে রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় শহরের একাধিক ভবন কেঁপে ওঠে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার সময় ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও রয়েছে, যা হামলায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, রাশিয়া কয়েক দিন ধরেই বৃহৎ পরিসরের এই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পোলিশ সামরিক বাহিনী জানায়, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, পোল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো)-এর সদস্য। জোটের চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা পুরো ন্যাটোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্টিয়ান্টিনিভকার দিকে অগ্রসর হয়েছে। শহরটি দখল করতে পারলে ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা চলতি বছরে হারানো কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে অধিকৃত ক্রিমিয়ায় রসদ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পূর্বাঞ্চলজুড়ে লড়াই এখনও অব্যাহত আছে।