স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ সিয়াটলে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করলেন শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। একসময় দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে এসে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। প্রথমার্ধেই দুটি গোল করে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তখন মনে হচ্ছিল, আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই নিশ্চিতভাবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেবে।
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ম্যাচের পুরো চিত্র। নির্ধারিত সময়ের ৮৫ থেকে ৮৭ মিনিটের মধ্যে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। মুহূর্তেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় ইউরোপের দলটি, আর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় একাধিক সুযোগ নষ্ট হয় এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটও শেষ হয় ২-২ সমতায়।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক নাটকীয় মুহূর্তে। ১১৭তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ইউরি তিলেমান্সকে ফাউল করেন সেনেগালের লামিন কামারা। প্রথমে খেলা চলতে দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় ঘটনা পর্যালোচনা করেন রেফারি সাইদ মার্তিনেজ। দীর্ঘ যাচাই শেষে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ সেই স্পট-কিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক ইউরি তিলেমান্স। চাপের মুহূর্তেও অসাধারণ স্থিরতায় শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে (১২০+৫) করা এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
গোল হজমের পর শেষ চেষ্টা চালায় সেনেগাল। যোগ করা সময়েই একটি ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু পাপ মাতা সারের নেওয়া শট গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে শেষ হয়ে যায় আফ্রিকার দলটির স্বপ্ন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বেলজিয়ামের উল্লাস। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে, যারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।