নাটোরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে পিটুনি, মেটারনিটি হাসপাতাল ভাঙ্গচুর

মো. মনজুর ই মওলা সাব্বির নাটোর জেলা সংবাদদাতা নাটোরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর কারনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসককে পিটুনি ও হাসপাতাল ভাঙ্গচুর করেছে ভুক্তভোগীর আত্মীয় স্বজন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে শহরের আলাইপুরে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।মৃত নবজাতকের আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমি বেগমকে প্রসবের জন্য মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতকের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।নবজাতকের বাবা বাবু হোসেন ও মা রুমি বেগমের অভিযোগ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় রোগীকে নার্সের মাধ্যমে প্রসব করানো হয়। কিন্তু দক্ষ না হওয়ার কারনে নবজাতককে ঠিকমত দেখভাল করা হয়নি। ফলে নবজাতকের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রথমে স্বাভাবিক ছিল। পরবর্তীতে নবজাতকের শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জানান, সদর হাসপাতালে আনার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি রোগীকে যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানোর কারনেই নবজাতকের অক্সিজেন ঘাটতি মৃত্যু হয়েছে।আবু হোসেন আরো বলেন, ‘আমার জীবিত বাচ্চাটিকে তারা অক্সিজেন না দিয়ে মেরে ফেলেছে, এর বিচার চাই।’ঘটনার কিছুক্ষন পর নবজাতকের ক্ষুব্ধ স্বজনরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি হাসপাতালের জানালা ও টেবিলের কাচ ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।প্রসূতি রুমি জানান, শনিবার (১১ জুলাই) পেটে ব্যথা নিয়ে মেটারনিটি হাসপাতালে আসলে তারা আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং অন্যান্য পরীক্ষা করে জানায়, রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন দরকার। তবে কয়েকদিন পরে করলেও চলবে। এরপর তারা কিছু ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু বাড়ি গিয়ে পেটের ব্যথা বাড়লে রবিবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই তারা মেটারনিটি হাসপাতালে আসেন। সেখানে নরমালি বাচ্চা প্রসব হয়। এরপর নার্সরা এবং রোগীর স্বজনরা চেষ্টা করেও কোনো চিকিৎসককে হাসপাতালে পাননি।এ ব্যাপারে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নাটোর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘কোনো ভুল ত্রুটি আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।