মধুমতির ভাঙনে বিলীন কার্পেটিং সড়ক, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

মাগুরা প্রতিনিধি : টানা বর্ষণ ও মধুমতি নদীর তীব্র স্রোতে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের দেউলী এলাকায় একটি কার্পেটিং সড়কের প্রায় ৫০ গজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে দেউলী, যশোবন্তপুর ও কালিশংকরপুর গ্রামের সঙ্গে ঝামা বাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদ ও গোরস্তানও নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দেউলী এলাকায় সড়কের বড় একটি অংশ ধসে মধুমতি নদীতে চলে গেছে। যেখানে একসময় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করত, সেখানে এখন মানুষ সাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাটক্ষেতের জমে থাকা পানির প্রবল স্রোত সড়কের ওপর দিয়ে নদীতে নেমে যায়। এর সঙ্গে মধুমতির তীব্র ভাঙন যুক্ত হয়ে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝামা বরকাতুল উলুম কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝামা গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উপায় নেই। সন্তানরা স্কুলে গেলে নিরাপদে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। অটোভ্যানচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই কাঁদার ওপর দিয়ে ভ্যান ঠেলে পার হতে হচ্ছে। প্রতি বছরই নদী এভাবে জমি আর সড়ক ভেঙে নিচ্ছে। শুধু সড়ক মেরামত নয়, স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি। ঝামা বরকাতুল উলুম কামিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ বলে, ধসে যাওয়া রাস্তা পার হতে খুব ভয় লাগে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, সড়কটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়।