আজহারুল আজাদ জুয়েল দিনাজপুর: দিনাজপুরের প্রাচীনতম পাঠাগার হেমায়েত আলী পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ হেমায়েত আলীর স্মরণে সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুর লেখক ফোরামের সহযোগিতায় হেমায়েত আলী লাইব্রেরী মিলনায়তনে আয়োজিত এই সাহিত্য আসরে সভাপতিত্ব করেন লেখক ফোরামের সভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েল। ১৫ জুলাই বিকেল পাঁচটা হতে রাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসরে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব হেমায়েত আলীর পুত্র, সাবেক যুগ্ম সচিব ও বিশিষ্ট লেখক মুহম্মদ জুলফিকার আলী। আসরের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেমায়েত আলি পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান মোঃ মিজানুর রহমান ডাবলু। সাহিত্য আসরে হেমায়েত আলীকে নিয়ে আলোচনা, কবিতা পাঠ ও গান পরিবেশন করা হয়। আলোচনা করেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের উপদেষ্টা প্রফেসর জলিল আহমেদ, প্রফেসর কামরুজ্জামান গোপন, কবি মোঃ লুৎফুর রহমান, দৈনিক উত্তর বাংলা নির্বাহী সম্পাদক জিনাত রহমান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রকৌশলী মোঃ নুর ইসলাম তুষার, কবি মাসুদ মোস্তাফিজ, বিরল মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কবি নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।
কবিতা আবৃত্তি করেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের উপদেষ্টা বিধান দত্ত, সহ-সভাপতি কবি ইয়াসমিন আরা রানু, সাধারণ সম্পাদক অদিতি রায়, কবি পপি হাসদক, কবি মাসুদা খাতুন, কবি ফাতেমা বেগম, মিনা সুলতানা, কবি নুরুল ইসলাম, রবিউল আউয়াল রবি, কবি মজেল উদ্দিন, রাকিউর রহমান পায়েল, মোছা. সোমা, সিরাজাম মনিরা প্রমুখ। সংগীত পরিবেশন করেন মামুনুর রহমান জুয়েল, রিতা হেমরম, সারাবান তহুরা মৌমিতা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহম্মদ জুলফিকার আলী তাঁর পিতাকে কেন্দ্র করে সাহিত্য আসর করার জন্য লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ এবং দিনাজপুর লেখক ফোরামকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমার পিতা কবি-সাহিত্যিকদের ভীষণ পছন্দ করতেন। তখন নতুন যারা কবি সাহিত্যিক আসতেন তাদের অনেক ভুল হতো। কিন্তু তিনি সেই ভুল অথবা দুর্বল লেখাও তার পত্রিকায় ছাপিয়ে দিতেন। কেন না আমার পিতা বলতেন যে, নতুনদেরকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই তাদেরকে আটকানো যাবে না। ১৯৪১ সালে নওরোজ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। নওরাজের প্রথম সংখ্যা থেকেই তিনি নতুনদের লেখা ছাপিয়েছেন। এখন কবির সংখ্যা বেড়েছে। সে তুলনায় লেখালেখির সংখ্যাও বেড়েছে এবং গুণগত মানও বেড়েছে। তবে অনেকের লেখার মধ্যেই দুর্বলতা আছে। এই দুর্বলতা কাঁটিয়ে উঠে প্রত্যেক কবি সাহিত্যিককে শক্তিশালী লেখক হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। এমনভাবে লিখতে হবে যেন সেইসব লেখা জাতিকে পথ দেখাতে পারে।
জুলফিকার আলী আরো বলেন, কবিতা লেখার মাধ্যমে কবিদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশ পায়। সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য ঘরে ঘরে সাহিত্য আসর হওয়া উচিত।
সাহিত্য আসরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের আইন বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া খাতুন রানু, শ্যামলী মুরমু প্রমুখ।