বাউফলে উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

মোঃ বাবুল হোসাইন বাউফল (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব মূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার কালাইয়া মদনমোহন জিউর আখড়া বাড়িতে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসব পালিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ভক্ত-অনুরাগী কালাইয়া মদনমোহন জিউরআখড়া বাড়িতে সমবেত হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সুসজ্জিত রথে জগন্নাথ দেব, বলরাম ও শুভদ্রার প্রতিমূর্তি স্থাপন করে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কালাইয়া বন্দরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা হরিনাম সংকীর্তন, ভজন ও ধর্মীয় সঙ্গীতে অংশ নেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য। সকল ধর্মাবলম্বীর নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, উৎসবকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে সবাই উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালাইয়া মদনমোহন আখড়া বাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা শিবানন্দ রায় বণিক, রণজিৎ চন্দ্র রায়, খোকন কর্মকার, তপন দেবনাথসহ স্থানীয় সুধীজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতুল চন্দ্র পাল এবং সঞ্চালনা করেন তুষার কান্তি ঘোষ।
মন্দিরের পুরহিত কার্ত্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, জগন্নাথ দেব জগতের অধীশ্বর। তার অনুগ্রহ লাভে মোক্ষ অর্জিত হয়। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর রথে জগন্নাথ দেবের পাশাপাশি বলরাম ও শুভদ্রার প্রতিমূর্তি স্থাপন করে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়। এর নয় দিন পর অনুষ্ঠিত হয় উল্টো রথযাত্রা। এ বছর আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ করা হয়। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রথযাত্রার আয়োজন সম্পন্ন হয়।