ইসলাম মুসলমানদের আমানতদারিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও…।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)
মুমিনের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৮)
ইসলামের দৃষ্টিতে আমানতের খেয়ানত গুরুতর অপরাধ। হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফিক… স্বভাবগুলো হলো—যখন তার কাছে কোনো আমানত রাখা হয়, সে তা খেয়ানত করে; যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে এবং যখন কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে, তখন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৪)
তাই কারও কাছে কোনো সম্পদ আমানত রাখা হলে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা দায়িত্ব। কারণ আমানত হিসেবে রাখা সম্পদ মূলত আমানতকারীরই মালিকানাধীন; আমানত গ্রহণকারী এর মালিক নন। তাঁর দায়িত্ব হলো সম্পদটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং মালিকের অনুমতি ছাড়া তাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা।
মালিকের অনুমতি ছাড়া আমানতের সম্পদ ব্যবহার করা বা তা থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা খেয়ানত হিসেবে গণ্য হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের কাজ হারাম এবং কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ২৭)
উল্লিখিত হাদিসেও রাসুল (সা.) আমানতের খেয়ানতকে মুনাফিকের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসলামী ফিকহের বিশিষ্ট আলেম ইমাম সারাখসী (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, আমানতের সম্পদে আমানতগ্রহীতার নিজস্বভাবে তসরুফ করা বা তা ব্যবহার করে মুনাফা অর্জনের অধিকার নেই।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি কারও কাছে টাকা আমানত রাখলে আমানতগ্রহীতা মালিকের অনুমতি ছাড়া সেই টাকা ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি অন্য কাউকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও মালিকের অনুমতি প্রয়োজন।
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ-তে উল্লেখ রয়েছে, আমানতগ্রহীতা মালিকের অনুমতি ছাড়া আমানতের টাকা অন্যকে ঋণ দিলে এবং মালিক তা অনুমোদন না করলে ওই টাকার জন্য আমানতগ্রহীতাকে দায়ী হতে হবে।
অতএব, কারও কাছে রাখা আমানতের টাকা নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা কিংবা মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে ঋণ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। আমানত রক্ষা করা শুধু সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্বও।