স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার-এর কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের যুক্তি তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহিঃপ্রতিকূলতার কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত প্রস্তুতিকালের পূর্ণ সুফল গ্রহণ করতে পারেনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার আরও শক্তিশালী করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে আরও কার্যকর করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন করা।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণকে আরও মসৃণ, স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই করতে চায়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
এ সময় ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে থাকা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।