ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার ওরফে প্রিয়া (কিশোরী) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রহস্যময় চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে, যার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে উপজেলার গেটসংলগ্ন সড়কের কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারহানা আক্তার ওরফে প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাটিতে বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন তালুকদার ও তার স্ত্রী জাহেদা আক্তার বসবাস করেন। জাহেদা আক্তার স্থানীয় কেতরাঙ্গা মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা।
ঘটনার দিন সকালে জাহেদা আক্তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় ফারহানাকে বাসায় রেখে যান। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তিনি বারবার কলিং বেল চাপলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারহানার মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেখানে মৃত্যুর কারণ বা আত্মহত্যার বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য নেই। চিরকুটটির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং সেটি ফারহানার নিজের হাতের লেখা কি না—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে।