ওজন কমাতে চাইলে রাতের খাবারের তালিকা থেকে ভাত বাদ দেওয়াই একমাত্র উপায়—এমন ধারণা বহুদিন ধরেই প্রচলিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন, সন্ধ্যার পর ভাত খেলেই দ্রুত ওজন বেড়ে যায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন। ওজন বাড়া বা কমা নির্ভর করে দিনের মোট ক্যালোরি গ্রহণ ও খরচের ওপর, শুধু রাতের খাবারে ভাত খাওয়ার ওপর নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবারে পরিমিত পরিমাণে ভাত খাওয়া ওজন বৃদ্ধির কারণ নয়। বরং একজন মানুষ সারাদিনে যত ক্যালোরি গ্রহণ করেন এবং যত ক্যালোরি ব্যয় করেন, সেই ভারসাম্যই নির্ধারণ করে তার ওজন বাড়বে নাকি কমবে। তাই ক্যালোরির ঘাটতি বজায় থাকলে রাতের খাবারে ভাত রাখলেও ওজন কমানো সম্ভব।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাতের খাবারে আধা কাপ থেকে এক কাপ রান্না করা ভাত যথেষ্ট। ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত সবজি যোগ করলে খাবারটি আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর হয়। শুধু ভাত খাওয়ার পরিবর্তে সুষম খাদ্য গ্রহণই স্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ভাতের পরিবর্তে রুটি বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত ও রুটির মধ্যে কোনো একটিকে এককভাবে শ্রেষ্ঠ বলা যায় না। কোনটি খাওয়া হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির হজমক্ষমতা, খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন পুষ্টি পরিকল্পনার ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা।
এছাড়া কম পালিশ করা বা হাতে ছাঁটা চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। একই সঙ্গে রাতের খাবার ও ঘুমানোর মধ্যে অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যবধান রাখলে হজম ভালো হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকিও কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে ভাতকে শত্রু মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে ভাত, পর্যাপ্ত প্রোটিন, সবজি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—এই সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।