বর্ষায় মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে নবাবগঞ্জের জনপদ
মো.মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আষাঢ়ের টানা বর্ষণের পর দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আমন চারা রোপণ জন্য জমি চাষ করতেছে কৃষকরা, এদিকে পাওয়ার টিলার পিছনে মাছ ধরার জন্য মেতে উঠেছে শিশু – কিশোর সহ নানা বয়সের মানুষ। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়নের তিখুর পশ্চিমপাড়ায় সরে জমিনে দেখা যায়, নতুন পানির স্রোতের সঙ্গে বিভিন্ন খাল, বিল, ডোবা থেকে জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। আর সেই মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সেখানে ফিরে এসেছে বহুদিনের চিরচেনা গ্রামীণ উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণরাও নেমেছেন মাছ ধরার আনন্দে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে শিশু-কিশোরদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। গ্রামীণ জীবনের এই দৃশ্য যেন বর্ষার এক চিরন্তন ঐতিহ্য। একদিকে ঝুম বৃষ্টি, অন্যদিকে জমিতে নতুন পানি, চারপাশে সবুজ প্রকৃতি আর শিশুদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়ছে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে শুরু হয়েছে মাছ ধরার এই উৎসব। বর্ষার শুরুতেই নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ খাল,বিল,ডোবায় ও জমিতে চলে আসে। তখন মাছ ধরা অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই প্রতিবছর বর্ষা এলেই এলাকার মানুষ জাল-বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি শুধু মাছ ধরা নয়, বরং একটি আনন্দঘন মৌসুমি আয়োজন। বর্ষার নতুন পানিতে এবার পুঁটি, টেংরা, ডারকা, চোপরা, গড়াই, মোয়া, চিংড়ি, কৈ, মাগুর, শিং, খলশে, টাকিসহ নানা ধরনের দেশীয় মাছ দেখা যায়।
শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকেই তারা পানিতে মাছের চলাচল দেখতে পায়। এরপর বিকেলে দল বেঁধে মাছ ধরতে নামে। শালখুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাজারুল ইসলাম বলেন, “ বাচ্চাদের মাছ ধরতে দেখে আমিও সেখানে যাই। বাচ্চারা খুব আনন্দ করে মাছ ধরছে। এমন দৃশ্য এখন খুব একটা দেখা যায় না। এটা আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ।”ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন “ আগে বর্ষা এলেই গ্রামের প্রায় প্রতিটি খাল-বিল ও জলাশয়ে মানুষ মাছ ধরতে নামত। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই কমে গেছে। তবে নতুন পানি এলে এখনও শিশু-কিশোরদের মাছ ধরার আনন্দ দেখে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে।