‘জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কারও একার নয়, শহীদরা পুরো জাতির সম্পদ’—শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সাফল্য নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন, তারা পুরো জাতির গর্ব ও সম্পদ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রতিযোগিতায় ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছায় কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।

জুলাই আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমার পরিবর্তে বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিকরা এখনো চাঁদাবাজদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা না দিলে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পর সরকারের নৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে সেই রায় মেনে নিতে হবে। জনগণের সিদ্ধান্ত অস্বীকার করা মানে জনগণের ইচ্ছাকে অসম্মান করা। ভবিষ্যতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।