হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি, সমঝোতা ভেস্তে গেলে ‘নিয়ন্ত্রণ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানকে এই নৌপথ বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকারও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে না আসে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে পিছপা হবে না। তার ভাষায়, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। তিনি বলেন, “তারা যদি চুক্তির পথে না আসে, তাহলে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, এমন পদক্ষেপ ইরানের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং এ বিষয়ে তেহরানকে সরাসরি সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেখানে পরিবাহিত জ্বালানি সম্পদের একটি অংশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নজরদারি প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করতে পারে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতির প্রতিফলন কিনা, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি হোয়াইট হাউস। এ নিয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে এসব গোষ্ঠীর উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বৈঠক শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।