আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ইরানের জন্য পরিণতি হবে ভয়াবহ।
শনিবার (২৭ জুন) হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে নেওয়া প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ। এর কিছু সময় পরই পাল্টা অভিযানের ঘোষণা দেয় তেহরান।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করবে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে হবে।
এদিকে আইআরজিসির নৌ শাখা যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘কঠিন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের অবস্থান দুর্বল করতে পারবে না; বরং যে কোনো আগ্রাসনের জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সদস্যদের হতাহত হওয়ার বা বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনও তাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। দুই পক্ষের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।