পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি একাত্তর ও জুলাই গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগের দলগত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তৎকালীন গণহত্যার বিচার-সংক্রান্ত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু রায় ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ইতোমধ্যে হয়েছে এবং তিনি নিজেও ওই মামলার একজন সাক্ষী।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ইতিহাসে দুই দফা গণতন্ত্র ধ্বংস, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা এবং গণহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের দলগত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার মতে, জুলাই গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় এবং তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনি প্রতিবছর ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ এবং ভারতের কিছু গণমাধ্যম আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতার বক্তব্যেও আন্দোলনের আত্মত্যাগকে খাটো করার প্রবণতা দেখা গেছে।
দেশজুড়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর প্রায় ১ হাজার ৪৯৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার অনেকগুলোতে অর্থ লেনদেন, চাঁদাবাজি, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠেছে। মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদে বিস্তারিত জানাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের গতি নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান প্রসিকিউশন টিম নতুন মামলার তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে দক্ষ আইনজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানান তিনি।