টানা বৃষ্টি-বন্যার প্রভাবে পেঁয়াজের বাজারে আগুন, কয়েক দিনেই কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজি বাজারের পর এবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পেঁয়াজের দামও। মাত্র তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, যা ভোক্তাদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ ও রামপুরাসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক দিন আগেও একই মানের পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার আশপাশে। মাঝারি মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে।

পাইকারি বাজারেও বেড়েছে দাম। বর্তমানে পাঁচ কেজির এক পাল্লা ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে একই পরিমাণ পেঁয়াজের দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীতে পেঁয়াজ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুদামে পানি ঢুকে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আবদুল হাকিম বলেন, ঢাকার বাজারে মূলত উত্তরবঙ্গ, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মোকামেই দাম বেড়ে গেছে। ফলে বেশি দামে কিনে এনে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা মামুন বলেন, গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে কিনেছেন, এখন সেটিই ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তার ভাষায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরেক ক্রেতার অভিযোগ, বৃষ্টি ও বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ব্যবসায়ী অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরে না এলে আগামী কয়েক দিন পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং নিয়মিত বাজার তদারকির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।