স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম) সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আইওএমের বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “মানবপাচার মোকাবিলা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইওএমের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব জোরদার করতে আগ্রহী।” বৈঠকে দুই দশকের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরো শক্তিশালী করা, জাতীয় মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আইওএমের মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ সফর করবেন। এ উপলক্ষে আগামী ৪ আগস্ট ইউএন হাউস বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট-আইবিএম) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আইওএম তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এছাড়া, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এবং আইওএমের কারিগরি সহযোগিতা, নীতি সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএমের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট) ড. এস এম মোরশেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।