ঢাকার চারপাশে ফের চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: সেতুমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশের নদীপথে আবার যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রী আকর্ষণের মতো বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে রাজধানীর চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক শেষে এ ফলোআপ সভা হয়। সভায় ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, পর্যটনবান্ধব জলপথ হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ লক্ষ্যে এমন একটি রুট বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে যেখানে গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট ও বসিলা ঘুরে আবার গাবতলীতে ফেরা যাবে। বড় বাধা নদীদূষণ ও ৪২৪ স্পট বর্তমানে ওয়াটার বাস চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা নদীদূষণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের জরিপে দেখা গেছে- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১টি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬টি এবং ঢাকা ওয়াসার ৬৬টি পয়েন্ট থেকে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ১৫০টি পয়েন্ট থেকেও দূষিত বর্জ্য নদীতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪২৪টি স্থানে সরাসরি বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এসব উৎস বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিকল্পনা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, নদীর পরিবেশ এখন এমন যে অনেক জায়গায় দুর্গন্ধ ও আবর্জনার কারণে মানুষ নৌপথে ভ্রমণে আগ্রহী হয় না। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে মনোরম পরিবেশ তৈরি করা গেলে মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও ওয়াটার বাস ব্যবহার করবে বলে আশা করছে সরকার। নাব্যতা সংকট ও অতীত অভিজ্ঞতা শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট থাকলেও বর্ষায় তা কম থাকে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যমুনা থেকে পানি এনে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও বালু নদীতে প্রবাহ ধরে রাখার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। তাই আপাতত বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই সেবা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এ সেবা পরিচালনা করে গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল। লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আগের সেবায় পর্যাপ্ত ওয়াটার বাস ছিল না, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এছাড়া সড়কপথে যে গন্তব্যে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে পৌঁছানো যেতো, নদীপথে সেখানে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। তবে এবার নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াটার বাস চালানো গেলে যাত্রী বাড়তে পারে। তিনি জানান, এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। হাতিরঝিল মডেল ও টঙ্গী রেলসেতু বাধা হাতিরঝিলে ওয়াটার বাস সফল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সেখানে দূরত্ব কম ও চলাচলে তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু ঢাকার চারপাশের দীর্ঘ নদীপথে একই মডেল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তাই যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে কয়েকটি সেতুও বড় বাধা। বিশেষ করে টঙ্গী রেলসেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচলের পর্যাপ্ত উচ্চতা নেই। সড়ক সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ওই স্থানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে সেতু পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষমাণ ওয়াটার বাসে ওঠার বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। আলাদা বাজেট নেই, দুই মাস পর ফের বৈঠক শেখ রবিউল আলম জানান, এখনো এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে অর্থের প্রয়োজন হলে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আবার বৈঠক হবে। তখন বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, দ্রুততম সময়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আধুনিক ও আকর্ষণীয় ওয়াটার বাস সেবা চালু করা।