কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকটি ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয় এবং অন্য জাহাজগুলো এলাকা ত্যাগ করে। এর কিছু সময় পরই ইরানের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরান বলছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর হামলার জবাব হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে আইআরজিসি সতর্ক করেছে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক প্রভাবের দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই বহন করতে হবে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।