জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। তিনি মনে করেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।

শনিবার (১৪ জুন) প্রকাশিত এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ আয়োজন একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হবে। এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ নীতিমালার আওতায় দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে বালক শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন এবং বালিকা শিক্ষার্থী ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যা ক্রীড়াক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। চলতি বছর দেশব্যাপী বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও ম্যাচসংখ্যার দিক থেকে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।

শিশুদের সুস্থ বিকাশ, নেতৃত্বগুণ ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।