আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুর : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে বিএনপির জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিল সেই ওয়াদা থেকে দূরে সরে গিয়ে ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদীতার দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনাজপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত “জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোট: জন আকাঙ্খা বাস্তবায়নে সরকারের দায় ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে বর্তমান সরকার যাচ্ছে না। বরং গত পাঁচ মাসে দলীয়করণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ভিন্নমতের ওপর নিপীড়ন যেভাবে ফিরে এসেছে, তাতে প্রশ্ন জাগে-আমরা কি সেই ফ্যাসিবাদীদের মতই অন্ধকারেই ফিরে যাচ্ছি?
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের গণরায় এড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান। দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক।
প্রধান অতিথি বলেন, দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে রক্ত দিলাম, হাজারো মানুষ জীবন দিল ও আহত হলো, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫ কোটি মানুষ ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছিল। এই গণভোট ছিল জনগণের সরাসরি রায়ের প্রতীক, যা যে কোনো সংসদীয় আইনের চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।
তিনি গণভোটের বিরোধীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অনেকে দাবি করছেন এই সংস্কার ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। আমাদের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ আইনের মর্যাদাপ্রাপ্ত। তদুপরি, সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই জনগণের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন। অথচ আজকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার সারতে চাইছেন, যা জুলাই সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো- গণভোটে দেওয়া জনগণের ৫ কোটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় ও ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জুলাই সনদের গণরায় এড়িয়ে পুনর্গঠিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টা রাজপথে ও সংসদে তীব্রভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ, গণভোট, সংস্কার, শপথ, এই চার শব্দ নিয়ে বিএনপি বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কিন্তু কোন বিভ্রান্তি কাজে আসবে না। মনে রাখতে হবে, এবারের নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয় নাই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হলে ২০২৯ সালে করতে হতো। নির্বাচন হয়েছে রাষ্ট্রপতির আদেশে। রাষ্ট্রপতির আদশ মানেই আইন। সেই আদেশের অর্ধেক মানবেন অর্ধেক মানবেন না তা হবে না। ০১পি
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টীম সদস্য ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক দিনাজপুর জেলা আমীর মোঃ আফতাব উদ্দীন মোল্লা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ রাজিবুর রহমান পলাশ, দিনাজপুর জেলা এনসিপি আহবায়ক শামছুল মুক্তাদির, জাগপা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস রুপম, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, দিনাজপুর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা, এনডিএফ’র সাধারণ সম্পাদক ডা.আফসার আল মাহমুদ, দিনাজপুর শহর আমীর মাওলানা মোঃ সিরাজুস সালেহীন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর সাবেক সমন্বয়ক মোঃ একরামুল হক আবীর, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম, দিনাজপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা এবং ইসলামী ছাত্রশিবির হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল হক ।