মাত্র ৬ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার! বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

বিশ্বজুড়ে মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মাথায় ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে সনি পিকচার্স ও মার্ভেল স্টুডিওসের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ড অভিনীত সুপারহিরো সিরিজের নতুন এই সিনেমা মুক্তির পর থেকেই বিশ্ব বক্স অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছে।

চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা সিনেমার তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছে ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যা উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই ১.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।

মুক্তির প্রথম চার দিনেই উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে সিনেমাটি আয় করেছে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন রেকর্ড। এছাড়া সোমবার একদিনেই ৪৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর দীর্ঘদিনের সোমবারের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে ছবিটি।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সমান দাপট দেখিয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। উত্তর আমেরিকার বাইরে ইতোমধ্যে ছবিটির আয় ৬৪৫.৮ মিলিয়ন ডলার, ফলে বৈশ্বিক আয় ছয় দিনেই ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে।

উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৯৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকায় এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়ে। প্রিভিউ শো থেকে আয় হয় ৭২ মিলিয়ন ডলার, আর মুক্তির প্রথম দিনেই আয় করে ১৬৯.৮ মিলিয়ন ডলার

দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা না থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটি ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারে।

মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি ও ছবির প্রযোজক কেভিন ফাইগি এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি “এন্ডগেম”-এর ঘরোয়া আয়ের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। আমাদের এমসিইউর ৩৮তম চলচ্চিত্র সেই ইতিহাস গড়েছে—এটি সত্যিই অসাধারণ।’

এদিকে চলতি বছর এটি চতুর্থ সিনেমা হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে জায়গা করে নিল। এর আগে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, ‘মাইকেল’ এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ একই মাইলফলক অর্জন করেছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র এই বিস্ময়কর সাফল্য শুধু মার্ভেলের জন্য নয়, বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও বড় ইতিবাচক বার্তা। বছরের বাকি সময়ে ‘ডুন ৩’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তি পেলে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস আয় আবারও ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।