নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আপিল গ্রহণের প্রক্রিয়া
জানা যায়, সোহেল রানার করা জেল আপিলটি কার্যতালিকার ৩৪ নম্বরে এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি ৩৫ নম্বরে ছিল। ধারাবাহিকভাবে আজ আদালতে শুনানি শেষে আপিল গ্রহণের সিদ্ধান্ত আসে।
এর আগে মামলার ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা আপিল শুনানির জন্য ভিত্তি তৈরি করে।
নিম্ন আদালতের রায়
গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে। এছাড়া দুই আসামির বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হয়।
- সোহেল রানা: ৫ লাখ টাকা জরিমানা
- স্বপ্না আক্তার: ২ লাখ টাকা জরিমানা
জরিমানার অর্থ শিশুটির আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রির মাধ্যমে তা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা পাওয়া যায়।
পরে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তী ধাপ
হাইকোর্টে আপিল গ্রহণের পর এখন মামলাটি পরবর্তী শুনানির দিকে অগ্রসর হবে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।