হৃদরোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটে এমন ধারণা ভুল—শরীর অনেক আগেই একাধিক সতর্কসংকেত দিতে শুরু করে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা, বিশেষ কোনো পরিশ্রম ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা গুরুতর অ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে বমিভাব ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে, যা অনেকেই গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। বুক ধড়ফড়, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া, যা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড় বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে—এটি হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট বা বিশ্রামেও শ্বাস নিতে সমস্যা হৃদযন্ত্র দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়া ফুসফুসে তরল জমার কারণে সাদা বা গোলাপি ফেনাযুক্ত কফসহ কাশি, শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা বা হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার লক্ষণ হতে পারে। ধমনিতে ব্লক থাকলে পায়ে ব্যথা, ঠান্ডা অনুভূতি বা ত্বকের পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, স্লিপ অ্যাপনিয়া, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম, বিভ্রান্তি বা মনোযোগের ঘাটতিও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের উপসর্গও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের মতো অনুভূত হয়, তাই সতর্কতা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ একা নয়—একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।