আশুরার কর্মসূচিতে ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি থাকবে: ডিএমপি কমিশনার

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আশুরা ও তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের হামলার শঙ্কা না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইমামবাড়া ও মিছিলের রুটে ব্যারিকেড, পিকেটিং, ছাদে নজরদারি, ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডিএমপি কমিশনার জানান, মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় (লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর) ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররম ১০টি, ৯ মহররম ১৯টি এবং ১০ মহররম ২৪টি তাজিয়া মিছিল বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‌্যাব, সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিমের মাধ্যমে মিছিলের রুট ও সমাবেশস্থল তল্লাশি করা হবে। এছাড়া ইমামবাড়াগুলোতে আর্চওয়ে গেট, মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। তিনি আরও জানান, ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ক?মিশনার জানান, হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। হোসাইনী দালান ইমামবাড়া, আঞ্জুমান হায়দারী, বড়কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানসমূহকে পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইমামবাড়াগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলের বিশেষ রুট ও ট্রাফিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী ২৬ জুন সকাল ১০ টায় হোসাইনী দালান ইমামবাড়ার উত্তর গেট , হোসাইনী দালান মোড় , বকশীবাজার লেন , আলিয়া মাদ্রাসা মোড় , বকশীবাজার (কলপাড়) মোড় , উমেশ দত্ত রোড , উর্দু রোড মোড় , হরনাথ ঘোষ রোড , লালবাগ চৌরাস্তা মোড় , গৌর-এ-শহীদ মাজার মোড় , এতিমখানা মোড় , আজিমপুর চৌরাস্তা মোড় , ইডেন মহিলা কলেজ , নীলক্ষেত মোড় , মিরপুর রোড , ঢাকা কলেজ , সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় , ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২নং রোড , বিজিবি ৪নং গেট , সাত মসজিদ রোড (জিগাতলা) হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য ধানমন্ডি লেক (কারবালা)-এ গিয়ে মিলিত হবে। এই রুটগুলোতে সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ডাইভারশন থাকবে। মিছিল চলাকালীন তীব্র যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেন তিনি। তাজিয়া মিছিলের দীর্ঘ পথ ও জমায়েতের কথা বিবেচনা করে আপদকালীন সময়ে ফায়ার ফাইটার বা ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হবে। পাশাপাশি, ধানমন্ডি লেক কারবালা সংলগ্ন জলাশয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দক্ষ ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। আয়োজক কমিটির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি আয়োজক কমিটিকে তাদের নিজস্ব পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (আইডি কার্ড বা নির্দিষ্ট পোশাকসহ) মিছিলে ও ইমামবাড়ায় মোতায়েন রাখতে হবে, যারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না। কোনও প্রকার ধারালো ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, চাকু, লাঠি, ছোরা, তরবারি, বর্শা, ব্যাগ, পোটলা বা সুটকেস নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া আগত ব্যক্তিদের ব্যাগ, সুটকেস, ছাতা, কুকার জাতীয় সন্দেহজনক প্যাকেট বা বক্সসহ প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র বা পিএ সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনও ধরনের ঢাক-ঢোল বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইন গুজব প্রতিরোধে বিশেষ বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা সাইবার পেট্রোলিং এবং সোস্যাল মিডিয়া মনিটরিংকার্যক্রম চল?কে। কোনও ইমামবাড়া বা মিছিলের রুটে সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ কিংবা ডিএমপির ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম- ০১৭১১০০০৯৯০, ০১৭১১০০০৯৯১, পুলিশ কন্ট্রোলরুম-০১৩২০০৩৭৮৪৫, ০১৩২০০৩৭৮৪৬ ও জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।