জামায়াত-এনসিপি সরকারের আস্তিনের সাপ : মোমিন মেহেদী

স্টাফ রিপোর্টার : নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সেজে থাকা ১১ দলীয় জোটের সকল দলের মত জামায়াত-এনসিপি বিএনপি সরকারের আস্তিনের সাপ। এই সাপকে এখনই ধ্বংস না করলে দংশনে সরকারের শরীর বিশে নীল হয়ে যাবে। ট্রাম্প বা বিশ্বের কোনো বড় ওঝা সেই বিষ নামাতে পারবে না। সাংবাদিকদের উপর হামলাই প্রমাণ করে- জামায়াত দেশে শান্তি-সমৃদ্ধি-কল্যাণ চায় না, কেবল ক্ষমতা চায়। ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ধর্ম পালন ও বাক স্বাধীনতায় বাঁধার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য যে জামায়াত ইসলাম একাত্তরে বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করতে চেয়েছিলো, সেই জামায়াতে ইসলাম এখন নির্মমভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালাচ্ছে, গণমাধ্যম দখল করছে, মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানিতে নেপথ্য নায়কের ভূমিকা রাখছে এবং দেশে ইসলামের নামে মওদুদীধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা কিছু নামকাওয়াস্তে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে দেশে সহিংসতা বাড়াচ্ছে, ধর্মীয় দাঙ্গা বাঁধাতে কাজ করছে। সত্যিকার্থেই তারা ক্ষমতায় আসতে একের পর বিভিন্ন ধরণের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনিভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী- দেশ বিরোধী- জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করাই হবে বিএনপি সরকারের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তা না করলে খেসারত হবে ভয়াবহ। এসময় নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার গাজী মনসুর, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হরিদাস সরকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, অরবিন্দ দেবনাথ, জাতীয় সাংস্কৃতিকধারার সদস্য গীতিকার বিএন রুবেল, কন্ঠশিল্পী জোবায়ের, সমিরণ দেবনাথ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় বক্তারা আরো বলেন, আমরা চাই দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদের পাশাপাশি সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকুক, কিন্তু সেই দেশকে কোনোভাবেই প্রদেশে ভাগ করার পক্ষে আমরা নই। আমরা নতুনধারার রাজনীতিকেরা ভারতকে বন্ধু মনে করি কিন্তু প্রভু বা মালিক নয়; অতএব, শুভেন্দু-মমতা বলবো- বাংলাদেশ নিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারবেন না।
সমাবেশ শেষে সচিবালয়ে নতুনধারা নেতৃবৃন্দ ‘ধর্ম সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়-   ‘ধর্ম সুরক্ষা আইন’-এ থাকতে হবে যে বিষয়গুলো, তা হলো-
১. কোনো ধর্মের স্রষ্টা, নবী, অবতার বা ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে মন গড়া, অবমাননাকর লেখা, কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য দেয়া যাবে না।  কেউ এই নিকৃষ্টতর কাজ করলে এবং তা প্রমাণিত হলে কমপক্ষে ৩ মাস, সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন, সাথে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।
২. কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা বিশেষ কোনো অংশ ভাংচুর করলে আর তা প্রমাণিত হলে সর্বনিন্ম ৬ মাস, সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন, সাথে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।
৩. যে কোনো ধর্মের অপব্যাখ্যা করলে সর্বনিন্ম ৬ মাস, সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন, সাথে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।
৪. ওয়াজ মাহফিলে নারী বিদ্বেষী কোনো বক্তব্য দেয়া যাবে না, সমাজে সংঘাত তৈরি হয় এমন ওয়াজও করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা মানতে হবে। ব্যততয় হলে এবং প্রমাণিত হলে ওয়াজিন ১ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল-এ অংশ নিতে পারবে না মর্মে বিধান রাখা যেতে পারে।