বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই শেষে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার রক্তচাপ ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর খবরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী গভীর শোক প্রকাশ করে তার কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে নিজের শিল্পসত্তার টানে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) যোগ দেন। চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং সংস্কৃতি বিকাশে তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের আরও বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেন এই গুণী শিল্পী।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্পাঙ্গন হারাল এক প্রজন্মস্রষ্টা ব্যক্তিত্ব, যার সৃষ্টিকর্ম ও অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।