ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে নেমেছে মানুষের ঢল। রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মুসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচি, যার মধ্য দিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার এবং নিহত নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বার্তা তুলে ধরছে ইরান।
শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
রাষ্ট্রীয় আয়োজনজুড়ে ছিল ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগান। পাশাপাশি তেহরানের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছে মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীকসংবলিত আয়াতুল্লাহ খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে জড়ো হওয়া মানুষ ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন। জানাজা ঘিরে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সাঁজোয়া যান, ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তা সদস্য এবং স্নাইপার।
মুসাল্লায় প্রবেশের আগে অংশগ্রহণকারীদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পাওয়ার ব্যাংক, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আগুন জ্বালানোর বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় যেমন বিপুল জনসমাগম হয়েছিল, এবারও তেমন উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সময় অতিরিক্ত ভিড়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
এবারের আয়োজনে ভিড় এবং তীব্র গরমের কারণে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা দল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
দাফন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক এলাকায় বেসরকারি যানবাহনের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। তার দাফন অনুষ্ঠানে শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিশোধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাল পতাকাও তেহরানজুড়ে বিভিন্ন স্থানে উড়তে দেখা গেছে।