ফ্রান্স ম্যাচের আগে মরক্কোর বড় দুঃসংবাদ, চোটে ছিটকে গেলেন তারকা মিডফিল্ডার সাইবারি

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বড় ধাক্কা খেল মরক্কো। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের অন্যতম ভরসার মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ উয়াহবি

আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় বোস্টনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফ্রান্স–মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে ম্যাচের আগে সাইবারির অনুপস্থিতি মরক্কোর কৌশল ও আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে খেলতে নেমে মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান সাইবারি। এরপর থেকে পুনর্বাসন চললেও তিনি এখনো পুরোপুরি ফিট নন। তাই তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উয়াহবি বলেন, ‘সাইবারি এখনো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় নেই। তবে তার বিশ্বকাপ এখানেই শেষ হয়ে যায়নি।’

চলতি আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়সূচক শেষ শটটিও নিয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।

ফ্রান্সকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বীকার করলেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানান মরক্কো কোচ। তিনি বলেন, দলের লক্ষ্য থাকবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং সুযোগ কাজে লাগানো।

উয়াহবির ভাষায়, ‘আমাদের খেলার ধরন লুকানোর কিছু নেই। প্রতিপক্ষ জানে আমরা কীভাবে খেলি। তবে আমাদের এমন সামর্থ্য আছে, যা দিয়ে যেকোনো দলকে চাপে ফেলা সম্ভব।’

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মরক্কোকে। তবে এবার সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

কোচ উয়াহবি বলেন, ‘২০২২ সালের ম্যাচের সঙ্গে এবারের লড়াইয়ের কোনো মিল নেই। দুই দলই বদলেছে, আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা শেষ আটে উঠে সন্তুষ্ট নই। আমাদের লক্ষ্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা।’

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না মরক্কো। সাইবারির অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা হলেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার দলটি।