আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে টানা অষ্টম দিনের মতো সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক এলাকায় হামলার পর বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১৯ জুলাই) ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যে খুজেস্তান প্রদেশের শাদেগান শহরসংলগ্ন একটি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলার দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
প্রাদেশিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম জানায়, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে তাসনিম। দ্বীপে অবস্থানরত এক সংবাদদাতা জানান, বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে তৎপরতা শুরু করলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং এর পার্শ্ববর্তী কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে বন্দর আব্বাসের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও তা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নন।
তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্বীপের একাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানও এখন পর্যন্ত হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি বা সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।