আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড মিছিলে গাড়ি চালিয়ে হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ২১ বছর বয়সী আবদুল বাল্লাউত (আবদুল বি) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) বার্লিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পান্দাও এলাকায় তাকে ঘিরে অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
বার্লিন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সন্দেহভাজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে আসেন। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার রাতে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্লিন প্রাইড শোভাযাত্রায় একটি সাদা রঙের ভ্যান তুলে দেওয়া হয়। হামলায় এক নারী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার পর গাড়ি থেকে নেমে ছুরি হাতে উপস্থিত লোকজনের ওপরও হামলার চেষ্টা করেন আবদুল বাল্লাউত। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। হামলার পরপরই বার্লিন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে শনাক্ত করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক আবদুল বাল্লাউতের বিরুদ্ধে অতীতেও উগ্রপন্থার অভিযোগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনি আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
হামলার আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্দার দোবরিন্দ বলেন, হামলার ঘটনায় যে ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে, তিনি আগে থেকেই উগ্রবাদ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের নথিভুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, ঘটনাটিকে “ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে আবদুল জার্মানি থেকে তুরস্ক হয়ে লেবাননে যান। তদন্তকারীদের ধারণা, সেখান থেকেই তিনি আইএস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। যদিও সিরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে যাননি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে লেবাননে উগ্রপন্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। একই বছরের নভেম্বরে জার্মানিতে ফেরত পাঠানোর পর বার্লিন পুলিশ তাকে আবারও আটক করে। পরে একটি জার্মান আদালত তাকে এক বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর আইনজীবীর আবেদনে ছয় মাসের প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।
প্যারোলে মুক্তির দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বার্লিন প্রাইডে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জার্মান কর্তৃপক্ষ এবং হামলার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।