জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের একক বাঁশির সুর

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম কারিগর ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম বা ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম। জাহাজের নাবিক থেকে সঙ্গীতের অন্যতম দিকে অগ্রসর হয়ে গেলেন বংশীবাদক। সেই বাঁশির সুরের মূর্ছনায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক যাঁর নামের সঙ্গে অলংকৃত হয়েছে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ওস্তাদ।
সমুদ্রে ভেসে বড়ানোর নিঃসঙ্গতার প্রহরগুলোতে ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম বেছে নিয়েছিলেন বাঁশিকে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে সমুদ্রের যাত্রা কখনো থেমে থাকেনি কর্মজীবন বা বাঁশির সুর। সমুদ্রের পৃষ্ঠে বসে তিনি রেওয়াজ করতেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের রেকর্ড ছিলো তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। সেই সময় বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতের বংশীবাদক ওস্তাদ স্বর্গীয় পান্না লাল ঘোষের বাজানো রেকর্ডগুলোকে তিনি আপনকরে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর থেকে বাঁশি বাজিয়ে তিনি ২০১৭ সনে সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের ভূষিত হন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক।শাস্ত্রীয় বংশীবাদক দেশের অপ্রতিদ্বন্দী নাম ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম ১৯৪৫ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পিতার কর্মস্থল রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পূর্ব পুরুষের আদি নিবাস ছিলো ব্রাহ্মণ বাড়িয়ায়। বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন চট্টগ্রামে। বাঁশির সুর যেন প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে থাকা এক পরম নীরবতা, যা মনোমুগ্দকর ছোঁয়ায় শব্দে রুপান্তরিত হয়। একই সঙ্গে একাকিত্ব, প্রেম, ব্যাকূলতা এবং আধ্যাত্মিকতার যেন এক মায়াবী প্রকাশ করে! এই মায়াবী সুর নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সুর ও বাণীর ব্যঞ্জনায় প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের একক বাঁশি সন্ধ্যার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব। বিপুল সংখ্যক দর্শক ও সঙ্গীতানুরাগীদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান যেন এক মায়াবী সুরের আসরে রূপ নেয়। পরিপূর্ণ দর্শক সারি যেন সুরের মূর্ছনায় এক মায়াবী জগতে প্রবেশ করে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহবায়ক রওনাক হোসেনের সঞ্চালনায় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় এবং শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমন্ত্রণ জানান জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব ভুঁইয়া এবং ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নান্দনিক সন্ধ্যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠানের মূলপর্বে ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম যখন তাঁর বাঁশিতে সুর তুলেন, তখন পিনপতন চারপাশের কোলাহল ছাপিয়ে এক পরম নীরবতা ও শান্তি নেমে আসে।হ্রদয় ছোঁয়া এই সুর সন্ধ্যা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের হাতে সম্মাননা তুলে দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আয়ুব ভুঁইয়া। এই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা, সদস্য কাদের গনি চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পিআইও সৈয়দ আবদাল আহমদ, এ কে এম মহসীন, শাহনাজ বেগম পলি, মোমিন হোসেন ও অন্যান্য বরেণ্য ব্যক্তিগণ।