তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল নবাবগঞ্জবাসী

মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝিতে ঝাপসা গরম পুড়ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রখর রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এ অবস্থায় দুর্ভোগ বাড়িয়েছে লোডশেডিং। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলায় লোডশেডিং চরমভাবে পরিলক্ষিত হয়, সকাল ৭ টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘন্টা কারেন্ট ছিল।বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত থাকায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ নষ্ঠ হওয়ায় লোডশেডিং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতিরিক্ত গরমের ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। দিন-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার জনগণ। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারেন না, বারবার উঠে বসতে হয়। বয়সের ভারে এমন কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এক গৃহিণী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরে ছোট শিশু থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশুরা কান্নাকাটি করে, গরমে অস্থির হয়ে পড়ে। ফ্যান ছাড়া ঘরের ভেতর থাকা যায় না।”দাউদপুর ইউনিয়নের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানান, “লোডশেডিং এর কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না এবং ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার আশংকা করছেন।”নবাবগঞ্জের সচেতন মহল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কৃষিকাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে,বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালানোর সুযোগ থাকলেও ডিজেল ও পেট্রোলের সংকটে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লেদ কারখানা, মোটর গ্যারেজ, দুগ্ধ খামার, মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান,অটো রাইস মিল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সবখানেই অস্থিরতা বিরাজ করছে ।নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যু কেন্দ্র অফিস থেকে জানা যায় যে, পিক আওয়ারে নবাবগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮.৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৩.৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নবাবগঞ্জে প্রায় ৬০ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। সব মিলিয়ে লোডশেডিং ও ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুৎ বিল, এই দুই সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। দ্রুত এর সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।