মোঃ বাবুল হোসাইন বাউফল পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল থানায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদকসেবীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশিত একটি সংবাদের সত্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে| কথিত ওই ঘটনার শিকার যুবকের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদটিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন| সাংবাদিকতার নূন্যতম নীতিমালা অনুসরণ না করে এবং তথ্য যাচাই ছাড়াই এ ধরনের সংবাদ প্রচার করায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে| ?সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে ‘মাদকসেবীকে আটকের পর অর্থ লেনদেনে মুক্তি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়| প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বারাকাত এক যুবককে মাদকসহ আটক করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন| ?তবে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বাউফল পৌরসভার ৩ ন¤^র ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফেরদৌসের মা হাওয়া বেগম এই অভিযোগ সরাসরি অ¯^ীকার করেছেন| তিনি বলেন, “আমার ছেলে মাদকসেবী নয়| সে বন্ধুদের সাথে কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে আড্ডা দিচ্ছিল| খবর পেয়ে আমি সেখানে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বারাকাত আমার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন| এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি| যারা মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই|” ?ঘটনার সময় উপস্থিত বাউফল পৌরসভার ৩ ন¤^র ওয়ার্ডের জামায়াত নেতা ফিরোজ বলেন, “আমার সামনেই ছেলেটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে| অথচ একটি মাধ্যমে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অর্থ লেনদেনের কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে|” ?আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আদালতের রায় বা মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া কাউকে ‘মাদকসেবী’ বলা মানহানিকর| এছাড়া সংবাদটিতে ‘অজ্ঞাত প্রত্যক্ষদর্শী’র বরাত দেওয়া হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা প্রমাণ (অডিও-ভিডিও) উপস্থাপন করা হয়নি, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী| ?এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি নিজে তদন্ত করেছি| ছেলের মা, স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা| এটি পেশাদার পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র|