সাত বছর পর পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিং

দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

শি জিনপিংয়ের এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি চলতি বছরে চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর এবং দীর্ঘ বিরতির পর উত্তর কোরিয়ায় তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোডং সিনমুন-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি জিনপিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন এক ঐতিহাসিক নতুন সূচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন আধিপত্যবাদী ও কর্তৃত্ববাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে যৌথভাবে অবস্থান নিতে হবে।”

পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং শিশুদের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

পরে রাজধানীর ঐতিহাসিক কিম ইল সুং স্কয়ারে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ড দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শি জিনপিংয়ের সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং হাজারো মানুষ রঙিন বেলুন ও স্লোগানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দুই দিনের এই সফরে শি জিনপিং ও কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফর নতুন ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। ফলে শি-কিম বৈঠক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।