বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা মেক্সিকোর

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ছিল গোল, উত্তেজনা, বিতর্ক আর একের পর এক লাল কার্ড। শেষ পর্যন্ত সব নাটকীয়তা ছাপিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রাউল হিমেনেজ, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। কিন্তু সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। নবম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হুলিয়ান কিনোনেস গোল করে বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান।

গোল হজমের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধজুড়ে আধিপত্য ধরে রাখে মেক্সিকো। কিনোনেস ও হিমেনেজ আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণগুলো খুব একটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৯ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে ফাউল করায় স্পেপেলো সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। একজন কম নিয়ে খেলতে থাকা দলটি এরপরও লড়াই চালিয়ে গেলেও ৬৭ মিনিটে রাউল হিমেনেজের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত অংশ আসে শেষ দিকে। ৮৪ মিনিটে সহিংস আচরণের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বদলি খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানে লাল কার্ড দেখলে দলটি ৯ জনে পরিণত হয়। এরপর যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেসও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড বের করতে হয় রেফারিকে। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এমন ঘটনা দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে মেক্সিকো।

এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে এল ত্রি। আর হুলিয়ান কিনোনেসের নাম ইতিহাসে থেকে গেল ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হিসেবে। ম্যাচজুড়ে মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ফুটবল, দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ভুল এবং তিনটি লাল কার্ডই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।